Thursday, 8 September 2016

একটিমাত্র বিয়ে করার উপদেশ একমাত্র ইসলাম ধর্মই দেয়!


শেখ ফরিদ আলম

পৃথিবীতে প্রায় কয়েকশ ধর্ম আছে। ইসলাম পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। পৃথিবীর প্রত্যেক চার জন মানুষের একজন মুসলমান। মাত্র সারে চোদ্দোশ বছরে এই ধর্ম সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে। মিডিয়া ও ইসলামের সমালোচকরা এই বলে অপবাদ দেয় যে, ইসলাম নারীদের অধিকার দেয় না, বহু বিবাহ বৈধ করেছে ইত্যাদি। এই বহু বিবাহ নিয়ে কয়েকটি কথা বলা যাক। আল্লাহ তালা বলেন, ‘বিবাহ কর নারীদের মধ্য হতে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই, তিন আথবা চারটি। আর যদি অশঙ্কা কর যে (স্ত্রীদের মাঝে) সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে (মাত্র) একটি (বিবাহ কর)….’ [সুরা নিসা ০৪:০৩]

এই আয়াতে বোঝা যাচ্ছে যে কোনো মুসলমান ইচ্ছা করলে একের অধিক বিয়ে (চারের বেশি নয়) করতে পারে। কিন্তু তাতে শর্ত হলো তাকে তার স্ত্রীদের মাঝে সুবিচার অর্থাৎ একই রকম খাদ্য, বস্ত্র, সন্মান দিতে হবে এবং তাদের একের উপর অপরকে প্রাধান্য দেওয়া চলবে না। আর যে একাধিক বিয়ে করতে ইচ্ছুক কিন্তু তার মনে হচ্ছে তার স্ত্রী দের মাঝে সুবিচার বা সমতা রাখতে পারবে না তাহলে তাকে একটি বিয়েতেই সন্তুষ্ট থাকতে বলা হচ্ছে। স্ত্রী দের মাঝে সুবিচার করা নিশ্চয় কঠিন কাজ। কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে এ খুবই কঠিন। আল্লাহ মানুষকে সাবধান করে বলেছেন,“তোমরা যতই আগ্রহ রাখো না কেন, তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে কখনো সক্ষম হবে না……” [সুরা নিসা ০৪:১২৭] 

উপরের দুটি আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ইসলামে চারটি বিবাহ করা বৈধ কিন্তু একটি বিবাহ করতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে এবং বহু বিবাহে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন,  “….তোমরা এক জনের উপর সম্পূর্ণরূপে ঝুকে পরনা ও অপরকে (অপর স্ত্রীকে) ঝুলন্ত অবস্তায় রেখে দিও না …” [সুরা নিসা ০৪:১২৭]

এ ব্যপারে মুহাম্মদ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তির দুটি স্ত্রী আছে, কিন্তু তার মধ্যে একটির দিকে ঝুকে যায়। এরূপ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন অর্ধদেহ ধসা অবস্থায় উপস্থিত হবে’। [আহমেদ ২/৩৪৭; আসবে সুনান; হাকিম ২/১৮৬, ইবনে হিব্বান ৪১৯]

 বলা হয়ে থাকে যে, ইসলাম বহু বিবাহ বৈধ করেছে। আসলে ইসলাম বহু বিবাহের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যে কেউ চারটির বেশি বিবাহ করতে পারবে না। কারণ সে যুগে এমনকি আজ থেকে এক দেড়শ বছর আগে এই ভারতেই অনেক মানুষ ৩০-৫০-৮০ এমন কি একশোর বেশি বিবাহ করত! বিশ্বাস না হলে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘বহু বিবাহ’ ও‘বাল্য বিবাহ’ বই দুটি পরে দেখতে পারেন। আপনি যদি পৃথিবীর ইতিহাস পরেন তাহলে দেখবেন যে সব যুগেই মানুষ অনেক স্ত্রী রাখত। সে জন্যইডেভেন্পর্ট বলেছেন যে, ‘মুহাম্মদ (স) বহু বিবাহকে সীমার বাধনে বেঁধে ছিলেন’।

 ইসলাম চারটি বিবাহকে বৈধ বলেছে এবং একটি বিবাহ করতে উপদেশ দিয়েছে। এর একের অধিক বিবাহ করাটা ইসলামে ঐচ্ছিক। এটা ফরজ বা ওয়াজেব না। এমনকি বহু বিবাহে উতসাহও করা হয়নি বরং ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। বহু বিবাহ সকল ধর্মেই বৈধ। কিন্তু কোনো সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। অর্থাত আপনি যত ইচ্ছা বিয়ে করতে পারেন কোনো আসুবিধা নেই। পাশ্চাত্যের বিখ্যাত দার্শনিক লিটনার তার“মহামেডানিসম” বই এ লিখেছেন, ‘অপরিমিত বহু বিবাহ প্রথাকে মুহাম্মদ (স.) রুখে দিয়ে ছিলেন’। তিনি আরো লিখছেন ‘মুহাম্মদ (স) এর আইনের উত্সাহ কিন্তু স্পষ্টতই একটি বিবাহের পক্ষেই’ স্পস্ট ভাবে জেনে রাখা উচিত, ইসলাম কিন্তু লাগাম ছাড়া বহু বিবাহ প্রথাকে নিসিদ্ধ করেছে। মধ্যযুগে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথার মুখোসে যে বহু বিবাহ প্রথার প্রচলন করেছিলেন, সেই প্রথার সুযোগ নিয়ে কুলীন ব্রাহ্মণ শতাধিক বিবাহে মেতে উঠত। বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ ধর্মের নামে বহু কিশোরীকে ভোগ করত। নারীত্বের অপমানের কি চরম পদ্ধতিই না চালু ছিল মধ্যযুগের সেই সমাজে!

 আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারতে কোনো হিন্দু কিংবা আমেরিকা বা ইংলান্ডে কোনো খ্রিস্টান বহু বিবাহ করতে পারবে না, সেটা দেশের সংবিধান কোনো ধর্মীয় আইন নয়। ধর্ম অনুযায়ী তারা বহু বিবাহ করতে পারবে। যখন পৃথিবীর সকল ধর্ম বহু বিবাহ কে বৈধ করেছে তখন ইসলামকে নিয়ে সমলোচনা কেন ?!!

No comments:

Post a Comment